আসছে ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। প্রতি পাঁচ বছর পর পর ভোট উৎসবে মেতে ওঠার কথা ছিল বাংলাদেশের মানুষের। তবে গত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে সেই উৎসবে ভাটা পড়েছিল। এবার সবকিছু ঠিক থাকলে উৎসবমুখর পরিবেশে দেশের মানুষ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। এবারের নির্বাচনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন তরুণ ভোটাররা। ভোট নিয়ে তাদের মধ্যে যে উৎসাহ-উদ্দীপনা বিরাজ করছে তাতেই বোঝা যায়, তারাই হয়তো সুইং ভোটারের জায়গাটা দখল করবেন।
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে একতরফা নির্বাচনের কারণে ভোট নিয়ে আগ্রহ হারিয়ে ফেলে সাধারণ ছাত্রসমাজ। সবার মধ্যে একটাই চিন্তা-ভাবনা ছিল ভোট দিয়ে আর কী হবে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর মানুষের মধ্যে কিছুটা হলেও আশার সঞ্চার হয়েছে, এবার হয়তো ভোট দিতে পারবেন তারা
গত ১১ ডিসেম্বর জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি)। অন্তর্বর্তী সরকার সুষ্ঠু ভোটের সব ধরনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ এবার নির্বাচন করতে পারছে না। ফলে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীসহ আরও বেশ কয়েকটি প্রভাবশালী দল তাদের নির্বাচনি মাঠ গোছাতে ব্যস্ত। ভোট এলেই তাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠেন সব শ্রেণির ভোটাররা। এবার তাদের আকর্ষণের কেন্দ্রে তরুণ ভোটাররা।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য বলছে, দেশে বর্তমান ভোটার সংখ্যা ১২ কোটি ৭৬ লাখ। এই ভোটারদের মধ্যে চার কোটির বেশি তরুণ, যারা এবার প্রথমবারের মতো ভোট দেবেন। সুতরাং এই তরুণরাই ভোটের মাঠে বড় ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়াবে।
তরুণদের একটি বড় অংশ কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের প্রতি অনুগত বা অন্ধভাবে সমর্থন করেন না। তারা মূলত প্রার্থীর যোগ্যতা, দলের নির্বাচনি ইশতেহার এবং কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতির ওপর ভিত্তি করে শেষ মুহূর্তে কাউকে ভোট দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। গুরুত্বপূর্ণ এসব ভোটারকে সুইং ভোটারও বলা হয়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, বাংলাদেশের নির্বাচনে এই সুইং ভোটাররাই বড় ভূমিকা রাখেন।
কোটা আন্দোলন দিয়ে শুরু করে ২০২৪ সালে সরকার পরিবর্তনের বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তুলেছিল তরুণরাই। পরে তাদের সঙ্গে সেই আন্দোলনে একাত্মতা ঘোষণা করে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠনের সদস্যসহ সর্বস্তরের মানুষ। গোটা বাংলাদেশের তরুণ সমাজের এই যে রাজনৈতিকভাবে অধিকার আদায়ের আন্দোলন সেটি এখনও স্পষ্ট।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, বাংলাদেশ একটি রাজনৈতিকভাবে সচেতন তরুণ জনগোষ্ঠী পেয়েছে যাদের অধিকাংশই ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করেন। দেশে সুস্থধারার রাজনীতি চান তারা।
বলা চলে, বর্তমান তরুণ প্রজন্ম সোশ্যাল মিডিয়ায় ডুবে থাকে। তারা রাজনৈতিক দলগুলোর কর্মকাণ্ড খুব কাছ থেকে পর্যবেক্ষণ করার সুযোগ পান। ফলে দল, প্রার্থী, তাদের রাজনৈতিক আদর্শ, উদ্দেশ্য সব কিছুই তাদের জানা হয়ে যায়। যেটি এবার তরুণ ভোটারদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখবে। ভোটের মাঠে সেই তরুণদের যারা কাছে টানতে পারবে তারাই হয়তো আগামীতে ক্ষমতার মসনদে বসবে।